আহ্নিক গতির প্রমাণ (Proofs of Rotation)

নবম-দশম শ্রেণি (মাধ্যমিক) - ভূগোল ও পরিবেশ - মহাবিশ্ব ও আমাদের পৃথিবী | NCTB BOOK
1.7k
Summary

পৃথিবী তার মেরুদণ্ডের উপর পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তিত হচ্ছে, এর প্রমাণগুলি হলো:

  • মহাকাশযানের ছবি: উপগ্রহ ও মহাকাশযানের পাঠানো ছবিগুলি পৃথিবীর আবর্তন নিয়ে স্পষ্ট প্রমাণ প্রদান করে।
  • পৃথিবীর আকৃতি: নিউটন জানিয়েছেন যে, পৃথিবীর গোলাকার আকৃতির কারণ হলো এর আবর্তনের ফলে উদ্ভূত কেন্দ্রমুখী ও কেন্দ্রবিমুখী বল। ফলে উত্তর ও দক্ষিণ মেরু চাপা এবং মধ্যভাগ স্ফীত হয়ে যায়।
  • রাত-দিন হওয়া: পৃথিবীর আহ্নিক গতির ফলে ১২ ঘন্টা দিন ও ১২ ঘন্টা রাত হয়। এই গতি না হলে পৃথিবীর এক দিক চিরকাল অন্ধকারে থাকতো।
  • বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোত: পৃথিবীর আবর্তনের ফলে সৃষ্ট এই গতি ফেরেলের সূত্রের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়।

পৃথিবী বে নিজের মেরুদণ্ডের উপর পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তন করছে তার প্রমাণ হলো :

১। মহাকাশযানের পাঠানো ছবি পৃথিবী থেকে যেসব উপগ্রহ ও মহাকাশযান পাঠানো হয়েছে সেগুলোর প্রেরিত ছবি থেকে দেখা যায় যে, পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তন করছে। এ ছবিগুলোই পৃথিবীর আবর্তন বা আহ্নিক গতির সর্বাধুনিক ও নির্ভুল প্রমাণ ।

২। পৃথিবীর আকৃতি : কোনো নমনীয় বন্ধু যদি নিজের অক্ষের উপর লাটিমের মতো ঘুরতে থাকে তবে তার মধ্যে একই সঙ্গে কেন্দ্রমুখী (Centripetal) এবং কেন্দ্রবিমূখী (Centrifugal) বলের উদ্ভব হয়, যার প্রভাবে গোলাকৃতি বস্তুর প্রান্তদেশ কিছুটা চাপা ও মধ্যভাগ কিছুটা স্ফীত হয়। আবর্তন গতির প্রভাবেই জন্মকাপে নমনীয় পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ মেরু একটু চাপা এবং মধ্যভাগ সামান্য ফীত হয়ে যায়। বিজ্ঞানী নিউটন বলেন যে, পৃথিবীর আবর্তনের ফলেই এর লাকৃতি এমন হয়েছে ।

৩। রাত-দিন হওয়া : পৃথিবীর বেশিরভাগ স্থানেই পর্যায়ক্রমে দিন ও রাত্রি হয় । অর্থাৎ ১২ ঘন্টা দিন ও ১২ ঘন্টা রাত পৃথিবীর আহ্নিক গতির অন্যতম প্রমাণ। এ আহ্নিক গতি না থাকলে পৃথিবীর একদিক চিরকাল অন্ধকারে থাকত এবং অপরদিক আলোকিত হয়ে থাকত। গোলার্ধে ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়। এই বেঁকে যাওয়াটা ফেরেলের সূত্র নামে পরিচিত। বায়ুপ্রবাহ এবং সমুদ্রস্রোতের এই গতিবেগ প্রমাণ করে যে, আহ্নিক গতিতে পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তন করছে ।

Content updated By
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...